বসতঘরে বন্দী,পানিবন্দী বালাগঞ্জের জয়তুন বিবি।
রাস্তার পাশে নির্বাক বসে চোখে ভাসে নব্বই অতিক্রান্ত অশীতিপর বৃ্দ্ধার দীর্ঘ এক প্লাবনের ছবি।
পাহাড়ি ঢলের তোড়ে কুশিয়ারার পানি বাড়ে দিনেরাতে
বালাগঞ্জ, বিয়ানীবাজার, বিশ্বনাথ ও ফেঞ্চুগঞ্জ ডুব দেয় প্লাবনের পানিতে।
গহরমলি গ্রামের গৃহবধূ পারভিন বেগম বন্যার পানিতে পচে যাওয়া ধান শুকাতে শুকাতে
বুকে আশার বাঁধ বাধে,যদি পারিতাম
‘অগুইন হুকাইয়া ভাতর জোগাড় করতাম।’
গোরাপুর গ্রামের মানুষেরা সড়কে দিনাতিপাত করছে,
আবার পরিবার-পরিজন নিয়ে ভাসমান নৌকাতে সংসার পেতেছে।
মায়ারুর বিবি বলেন, ‘ছয় বাইচ্চা লইয়া নৌকাত থাকি, নৌকাত খাই, নৌকাত গুমাই।’
মানুষের ন্যায্য দাম বুঝি এই জীবনে নাই।
একই গ্রামের পিয়ারা বেগমের এখন কত বেশি হতাশা,
'গর বলতে অখন আর আমার কোনতা নাই। তছনছ অই গেছে হকলতা।
খানি জোগাড়র চিন্তায় পাগল অই যাইরাম।’
দয়াল এ কেমন তোমার বন্যার ব্যারাম?
বালাগঞ্জ সড়কে সপরিবারে আশ্রয় নেয় আখলিছ মিয়া ,
‘তুফানের মতোন পানি আইছে। চাইর হপ্তাহ অই গেল। পানি নামার নাম নাই!’
-এখন আমি কোন পথে যাই,কোথায় লুকাই,কোথায় লুকাই?
হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার দীঘলবাকে
দেওয়ান ফরিদ গাজী ত্রান বিতরন করেন ফাঁকে ফাঁকে।
অসহায় আদম সন্তানের চোখের জলে প্লাবিত আবার দিশেহারা কুশিয়ারা।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন